রক্তচাপ মাপার সময় এ ভুলগুলো করছেন না তো

রক্তচাপ (বিপি) মাপা খুব কঠিন কোনো কাজ না। বর্তমানে যাদের বাড়িতে উচ্চ-রক্তচাপের রোগী বা বয়স্ক ব্যক্তি আছেন, তারা অনেকেই স্ফিগমোম্যানোমিটার বা সহজ ভাষায় বিপি মেশিন বাসায় রাখেন। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও শেখানো হয় এর ব্যবহার। তবে রক্তচাপ পরীক্ষা করা সহজ হলেও অনেক সময় ছোটখাটো ভুলের জন্য ফলাফল ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই সেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মারুফ রায়হান খান। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিপি মেশিন ব্যবহারের সময় কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন-

১. সঠিক পোশাক ও পজিশন

পোশাকের উপর দিয়ে বিপি মাপবেন না: শার্ট বা জামার উপর দিয়ে রক্তচাপ মাপলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ মিলিমিটার মার্কারি বেশি আসতে পারে। তাই স্টেথোস্কোপটি সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে রাখুন বা পাতলা পোশাক পরে বিপি মাপুন।

হাতের সাপোর্ট: হাতের নিচে সাপোর্ট না থাকলে বা হাত ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে মাপলে রক্তচাপ ৫-২০ মিলিমিটার মার্কারি বেশি আসতে পারে। তাই টেবিল বা চেয়ারের হাতায় হাত রেখে অথবা শুয়ে বিপি মাপুন।

পিঠে সাপোর্ট: পিঠ সোজা রেখে বসুন। পিঠে সাপোর্ট না থাকলে রক্তচাপ ৫ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত বেশি আসতে পারে।

২. মাপার সময় এই কাজগুলো এড়িয়ে চলুন

কথা বলা: রক্তচাপ মাপার সময় বা একাধিকবার মাপার মধ্যবর্তী সময়ে কথা বললে রক্তচাপ ৪-১৯ মিলিমিটার মার্কারি বেশি আসতে পারে। তাই বিপি মাপার সময় কথা বলবেন না।

পা ক্রস করা: পায়ের ওপর পা তুলে বসলে রক্তচাপ ৩-১৫ মিলিমিটার মার্কারি বেড়ে যেতে পারে। তাই বিপি মাপার সময় পা সমতলে রেখে বসুন।

রক্তচাপ মাপার সময় এ ভুলগুলো করছেন না তো

ক্যাফেইন গ্রহণ: রক্তচাপ মাপার আগের ৩০ মিনিটের মধ্যে কফি বা চা পান করলে রক্তচাপ ৩-১৫ মিলিমিটার মার্কারি বাড়তে পারে।

৩. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

প্রস্রাবের চাপ: প্রস্রাবের চাপ থাকলে রক্তচাপ মাপলে তা ৪-৩৩ মিলিমিটার মার্কারি বেশি দেখাতে পারে। মাপার আগে প্রস্রাব করে নিন।

ধূমপান: দিনের প্রথম সিগারেট রক্তচাপ ২০ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ধূমপানের পরপরই রক্তচাপ মাপবেন না।

৪. কখন মাপবেন?

সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে শোয়ার আগে নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন। একই সময়ে মাপলে তুলনা করা সহজ হয়। প্রতিবার ২-৩ মিনিটের ব্যবধানে দু’বার মাপুন এবং গড় মান নিন। এতে আপনার রক্তচাপের ওষুধের ডোজ ঠিক করা সহজ হবে।

এ বিষয়গুলোর প্রত্যেকটিই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিপি দেখাতে পারে। তাই নিয়ম-কানুন মেপে এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে সঠিকভাবে ব্লাড প্রেশার মাপতে হয়। কোনো এক ওষুধের দোকানদার ব্লাড প্রেশার মেপে দিলো, আর তা দেখেই ওষুধ শুরু করে দেওয়া বা বন্ধ করে দেওয়া কোনোটাই সঠিক পদ্ধতি নয়। তাই সঠিক পদ্ধতিতে বিপি মাপুন এবং অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *